
শেরপুরে পাহাড়ে বেড়াতে এসে মামাতো-ফুফাতো ভাইয়ের মৃত্যু


শেরপুরে প্রতিনিধি
শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাটা পাহাড়ে বেড়াতে এসে ভোগাই নদীতে গোসল করতে নেমে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে পাহাড়ঘেঁষা ভোগাই নদীর লক্ষ্মীডোবায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট পৌর শহরের স্কুলশিক্ষক আহাম্মদ আলীর ছেলে মিহান (১৯) ও ময়মনসিং* সদরের উপ-সহকারী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা হুমায়ন কবীরের ছেলে সাজিত (১৩)। তারা সম্পর্কে মামাতো-ফুফাতো ভাই। নিহতদের মধ্যে মিহান এইচএসসি পরীক্ষার্থী এবং সাজিত সপ্তম শ্রেণির ছাত্র ছিল।
নিহতদের স্বজনরা জানান, মিহান ও সাজিতস* ১৮ জন মিলে পারিবারিকভাবে পানিহাটা পাহাড়ে বেড়াতে আসেন। দুপুরে পাহাড়ের গা ঘেঁষা ভোগাই নদীর লক্ষ্মীডোবার কাছাকাছি গোসলে নামে মিহান ও সাজিত। এ সময় প্রথমে সাজিত নদীর বালুচরে হাঁটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পা পিছলে গভীরে তলিয়ে যেতে থাকে। তাকে বাঁচাতে মিহান এগিয়ে গেলে জড়াজড়ি করে দুই ভাই নদীর গভীরে তলিয়ে যায়।
পরে সোহরাব তার ভাগনে ও ভাতিজাকে বাঁচাতে নদীতে ঝাপ দিলে তিনিও নদীতে থাকা পাথরে আঘাত পান। ততক্ষণে দুইজন নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলকে খবর দিলে বিকেল পৌনে ৪টার দিকে নদীর তলদেশ থেকে দুই ভাইয়ের মরদে* উদ্ধার করা হয়।
স্বজনরা আরও জানান, একটি বিয়ে উপলক্ষ্যে আত্মীয়-স্বজন সবাই হালুয়াঘাটে সমবেত হয়। গত শুক্রবার বিয়ে শেষে গতকাল শনিবার নারী ও শিশুস* মোট ১৮ জন মিলে পানিহাটা বেড়াতে আসে। বেড়াতে এসে এই দুর্ঘটনায় মৃত্যু হওয়ায় স্বজন ছাড়াও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত জামালপুর থেকে নালিতাবাড়ী সীমান্তের পাহাড়ি নদী ভোগাইয়ে আসি। ডুবুরি নামানোর পর দ্রুত সময়ের মধ্যেই দুই শিক্ষার্থীর মরদে* উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছানোয়ার হোসেন গনমাধ্যমকে বলেন, নিহতদের পরিবার ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদে* হস্তান্তরের আবেদন করলে থানা থেকে হস্তান্তর করা হয়। এই বিষয় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ